ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ ডাটাবেজ থেকে
Jump to navigation Jump to search
ওবায়দুল কাদের
Obaidul Quader MP (cropped).jpg
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
২৩ অক্টোবর ২০১৬
পূর্বসূরীসৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
৫ ডিসেম্বর ২০১১
পূর্বসূরীহাসানুল হক ইনু
বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২৩ জুন ১৯৯৬ – ১৫ জুলাই ২০০১
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
৬ জাুয়ারি ২০০৯
পূর্বসূরীমওদুদ আহমেদ
কাজের মেয়াদ
২৩ জুন ১৯৯৬ – ১৩ জুলাই ২০০১
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1952-01-01) ১ জানুয়ারি ১৯৫২ (বয়স ৬৮)
নোয়াখালী, পূর্ব পাকিস্তান
নাগরিকত্বপাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
শিক্ষাবিএ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)
প্রাক্তন শিক্ষার্থীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশারাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, লেখক
আমার এমপি ডট কম.png
আপনার এমপিকে প্রশ্ন করুন!
আপনি কি ওবায়দুল কাদেরকে কিছু জানাতে চান? বা কোন প্রশ্ন বা যোগাযোগ প্রয়োজন? আপনি আমার এমপি ডট কমে ওবায়দুল কাদেরকে দেখুন এবং প্রশ্ন করুন

ওবায়দুল কাদের (জন্ম ১ জনুয়ারি ১৯৫২) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। নোয়াখালী-৫ আসন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সপ্তম, নবম, দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন। শেখ হাসিনার প্রথম মন্ত্রিসভায় তিনি যুব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২১তম সম্মেলনেও তিনি পূণ:নির্বাচিত হন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন।


প্রাথমিক জীবন

ওবায়দুল কাদের ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানা, নোয়াখালী|কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[১] তার পিতার নাম মোশারফ হোসেন এবং মাতা ফজিলাতুন্নেছা।[২] মোশারফ প্রথমে সরকারি চাকরি করলে পরবর্তীতে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন।

শিক্ষা জীবন

কাদের স্থানীয় বসুরহাট ‘সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে মাধ্যমিক ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।[২]

পারিবারিক জীবন

রাজনৈতিক পদযাত্রা

কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত হন।[৩] তিনি ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন|৬ দফা আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান|১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।[৩] ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) কোম্পানীগঞ্জ থানা শাখার অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধে অংশ নেন।[৩] ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড|শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আড়াই বছর কারাবন্দী ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ|বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং দুই মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।[৪] ওবায়দুল কাদের ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছয়বার নোয়াখালী-৫ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ|আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন|জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। প্রতিবারই তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মওদুদ আহমেদ|মওদুদ আহমদ। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৯৯১|পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু নির্বাচনে তৎকালীন জাতীয় পার্টি (এরশাদ)|জাতীয় পার্টির প্রার্থী মওদুদ আহমদের কাছে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালের জুনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জুন ১৯৯৬|সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করে প্রথমবারেরমত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে সরকার গঠন করে। এ সময় সপ্তম জাতীয় সংসদ|সপ্তম জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনার প্রথম মন্ত্রিসভায় তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ)|যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সাথে ২৩ জুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০০১ সালের ১৫ জুলাই এ মন্ত্রিসভা বিলুপ্তির পূর্ব পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০০১|অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এ সময় মওদুদ আহমদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল|বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি দলের প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬-০৮ বাংলাদেশী রাজনৈতিক সংকট|২০০৬-০৮ বাংলাদেশী রাজনৈতিক সংকটের সময় ফখরুদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার|তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের জরুরি বিধিতে গ্রেফতার করা হয়। ২০০৭ সালের ৯ মার্চ তিনিও গ্রেফতার হন এবং ১৭ মাস ২৬ দিন কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ৫ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান। কারাগারে থাকাকালে কারাজীবনের বর্ণনা দিয়ে “অনুস্মৃতি : যে কথা বলা হয়নি” নাম একটি গ্রন্থ রচনা করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০০৮|নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে এবং তিনি একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে নবম জাতীয় সংসদ|নবম সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। নবম সংসদে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ)|তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘সভাপতিমন্ডলীর সদস্য’ নির্বাচিত হন।[৪] ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়|যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের (বর্তমান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী|মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১২ সালের এপ্রিলে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত|সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী একান্ত সচিবের (এপিএস) অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সুরঞ্জিত পদত্যাগ করার পর তিনি কিছুকাল রেলপথ মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ)|রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।[৫]

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৪|দশম এবং ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৮|একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করেন এবং শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রিসভা|শেখ হাসিনার তৃতীয় ও শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভা|চতুর্থ মন্ত্রিসভায়ও তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ২০১৬-২০১৯ মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর ২১তম জাতীয় সম্মেলনেও তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে পুন:নির্বাচিত হন।[৬]

নির্বাচন ইতিহাস

সমালোচনা

উল্লেখযোগ্য অবদান

সৃষ্টিকর্ম

ওবায়দুল কাদের রাজনীতি ছাড়াও বেশ কিছুদিন সাংবাদিকতা করেছেন এবং বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন।[৪] তিনি দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন। তিনি মোট ৯টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।[৭]

  1. তিন সমুদ্রের দেশে
  2. মেঘে মেঘে অনেক বেলা
  3. রচনা সমগ্র
  4. কারাগারে লেখা অনুস্মৃতি: যে কথা বলা হয়নি।
  5. নির্বাচিত কলাম
  6. Bangladesh: A Revolution Betrayed
  7. বাংলাদেশের হৃদয় হতে
  8. পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু
  9. এই বিজয়ের মুকুট কোথায়

সম্মাননা

যোগাযোগ মাধ্যম

  • টেলিফোন: ০১৭৩১২৫৪৩২০
  • ই -মেইল: noakhali.5@parliament.gov.bd

ডাক যোগাযোগ

ঠিকানাঃ স্থায়ী ও অস্থায়ীঃ
  • বাংলো নং- এ/২, সংসদ ভবন আবাসিক এলাকা, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭
  • মোশারফ হোসেনের বাড়ী, গ্রামঃ বড় রাজাপুর, ১ নং ওয়ার্ড, ডাকঘরঃ বসুরহাট, বসুরহাট পৌরসভা, উপজেলাঃ কোম্পানীগঞ্জ, জেলাঃ নোয়াখালী।

তথ্যসূত্র

  1. "ওবায়দুল কাদের-এর সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত" (PDF)। ৩ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  2. ২.০ ২.১ "জীবনী"। ২১ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১৩ 
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ "Obaidul Quader: At a glance"The Daily Star (English ভাষায়)। ২৩ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ "Companiganj" 
  5. "রেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন ওবায়দুল কাদের"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৬ 
  6. "শেখ হাসিনা সভাপতি, ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৬ 
  7. "মাননীয় মন্ত্রীর জীবনী"সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 

বহিঃসংযোগ

অবদানকারীগণ